চানখারপুল মামলার রায়কে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটি দাবি করেছে, ৫ আগস্টের ক্ষমতার পালাবদল কোনো গণঅভ্যুত্থান ছিল না; বরং বিদেশি শক্তির ইন্ধনে পরিচালিত পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এ বক্তব্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছে, ৫ আগস্ট কোনো গণঅভ্যুত্থান নয়। এটি ছিল বিদেশি শক্তির ইন্ধনে, দেশবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের নকশায় পরিচালিত ধ্বংসযজ্ঞ।’ সংগঠনটির অভিযোগ, রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে দুর্বল করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
চানখারপুল মামলার রায়কে ‘সাজানো প্রহসন’ উল্লেখ করে ছাত্রলীগ বলেছে, সাক্ষ্য–প্রমাণের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ছাড়া একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতকে ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি ন্যায়বিচার নয়, বরং আইনের মোড়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
জুলাই–আগস্টের সহিংসতা নিয়ে তৎকালীন সরকার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছিল দাবি করে সংগঠনটি বলেছে, বর্তমান সরকার সত্য উদঘাটনে আগ্রহী নয়। সে কারণেই নিরপেক্ষ তদন্তের বদলে ‘পূর্বনির্ধারিত রায়’ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক ও দখলদার’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রলীগ জানিয়েছে, এই সরকারের অধীনে দেওয়া কোনো বিচারিক সিদ্ধান্তকে তারা রাজনৈতিক বা নৈতিকভাবে বৈধ মনে করে না।
বিবৃতির শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আজ যে রায় দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে ইতিহাসই তার বিচার করবে।” একই সঙ্গে তারা দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
