বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার, জামিন এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। একাধিক ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনরা দাবি করছেন, আইনি প্রক্রিয়ার বদলে প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা হচ্ছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন জামিন না দিয়ে কারাগারে রাখা হচ্ছে, এমনকি তারা গুরুতর অসুস্থ বা বয়স্ক হলেও মানবিক বিবেচনা করা হচ্ছে না। কিছু ঘটনায় বিচারক ও আইনজীবীদের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং আদালত চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির কথাও বলা হয়েছে।
একটি আলোচিত ঘটনায় এক রাজনৈতিক কর্মীর স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে সরকারবিরোধী মহল দাবি করছে, আটক ব্যক্তির দীর্ঘ কারাবাস ও জামিন জটিলতার কারণে পরিবারটি চরম মানসিক সংকটে পড়েছিল। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আরেক ঘটনায় অভিযোগ করা হয়, এক বয়স্ক ব্যক্তিকে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো হলেও মামলার বাদী আদালতে তাকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেন। তারপরও জামিন না মেলার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা। তারা দাবি করছেন, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি।
আইনজীবীদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, কিছু মামলায় জামিনের বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
সরকারের সমালোচকরা বলছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ভেঙে পড়বে। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল এ ধরনের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই অভিহিত করছে।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।
