ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোটও। তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিলে কী প্রভাব পড়বে—তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব দেখা গেছে।
গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর মতামত চাওয়া হবে। কোনো বিষয়ে একমত হলে ‘হ্যাঁ’ এবং দ্বিমত হলে ‘না’ ভোট দিতে হবে। কিন্তু সব বিষয়ে একসঙ্গে একমত না হলে কীভাবে ভোট দেবেন এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন অনেকেই।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার ও তাদের সমর্থক কয়েকটি দল। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে প্রচারণা চালানো হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে শহরকেন্দ্রিক বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে অনেক ভোটারই এখনো জানেন না গণভোটে কী বিষয়ে মতামত দিতে হবে।
ঢাকার মগবাজার এলাকায় কয়েকজন রিকশাচালক ও হকার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা বেশি চোখে পড়ছে। তবে বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের পরিষ্কার ধারণা নেই।
রিকশাচালক আকবর বলেন, “আমরা তো প্রতীক দেখে ভোট দিই। এবার শুনি প্রশ্ন পড়ে ভোট দিতে হবে—এটা আমাদের জন্য কঠিন।” তিনি জানান, বাড়িতে এসে কিছু লোক ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কথা বলে গেছেন, কিন্তু বিস্তারিত বোঝাননি।
জেলার চিত্র
কুড়িগ্রাম:
এখানে সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও গণভোট সম্পর্কে বিভ্রান্তি বেশি। দিনমজুর নামদেল আলী বলেন, “প্রতীক ছাড়া ভোট দেওয়া কঠিন।” নারী ভোটার ওসনা বেগম জানান, তিনি ‘হ্যাঁ-না’ ভোট সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
বাগেরহাট:
রাজনৈতিক দলগুলো সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট নিয়েও কিছু প্রচারণা চালালেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। অনেকেই শুধু শুনেছেন ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট হচ্ছে।
শেরপুর:
গ্রামাঞ্চলে গণভোট নিয়ে প্রচার প্রায় নেই বললেই চলে। শ্রমজীবী রাজু মিয়া বলেন, “গণভোট কীভাবে দিতে হবে জানি না।” সংখ্যালঘু গারো সম্প্রদায়ের ভোটাররাও একই ধরনের অজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
কুমিল্লা:
শিক্ষিতদের মধ্যেও বিভ্রান্তি আছে। একজন শিক্ষক জানান, গণভোট হবে শুনেছেন, কিন্তু প্রশ্নগুলো স্পষ্ট জানেন না। একজন ব্যবসায়ী বলেন, “হ্যাঁ-না ভোটের কথা শুনেছি, কিন্তু কেন দেব বুঝি না।”
বিশেষজ্ঞদের মত
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর স্থানীয় নেতারা বলছেন, গণভোট সম্পর্কে পর্যাপ্ত জনসচেতনতা তৈরি হয়নি। এতে ভোটের দিন বিভ্রান্তি বা জটিলতা তৈরি হতে পারে।
গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, সরকার বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং বিষয়টি ধীরে ধীরে মানুষের কাছে পরিষ্কার হবে বলে তারা আশা করছেন।
তবে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে, জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপের ভিড়ে গণভোটের বিষয়টি এখনো অনেক ভোটারের কাছেই অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
