নিজস্ব প্রতিবেদক
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার পরে তদন্তে ভিন্ন মোড় নিয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ডিবি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের ছেলে সালমানের নাম উঠে এসেছে।
তবে ডিবির কোনো কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলা হয়নি। গোলাম পরওয়ার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১৪ জানুয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, ওসমান হাদীর হত্যার পরিকল্পনাকারীরা তার জানাজায় সামনের সারিতেই উপস্থিত ছিলেন। যদিও তিনি সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ করেননি, তার বক্তব্য অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
একই পোস্টে জুমা অভিযোগ করেন, মামলার চার্জশিটে কেবল দুইজনকে রাখা হলেও “ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী” কেউই সেখানে নেই।
ডিবির প্রাথমিক সন্দেহ: গুলির দিক ও ঘটনাস্থলের অবস্থান
ডিবি সূত্র জানায়, শুরুতে ঘটনাটিকে মোটরসাইকেল আরোহী ফয়সাল করিম ও আলমগীরের গুলিবর্ষণ হিসেবে প্রচার করা হলেও তদন্তে কিছু অসংগতি পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলের ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, হামলাকারীদের মোটরসাইকেল হাদীর ডান দিক দিয়ে অতিক্রম করে।
কিন্তু চিকিৎসকদের মতে গুলি লেগেছে হাদীর বাম কানের নিচে, যা ডিবির কাছে সন্দেহ তৈরি করে।
হাদীকে হাসপাতালে আনা সহকারী মিসবাহ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদও বাম চোয়ালের নিচে গুলি লাগার তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন।
ডিবি সূত্র অনুযায়ী, এই অসংগতির ভিত্তিতে মিসবাহকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হলে তিনি নিজেকে শিবিরকর্মী দাবি করেন এবং হত্যার নির্দেশ পেয়েছেন বলে জানান—এ দাবির স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
যেভাবে নাম আসে সালমানের
জিজ্ঞাসাবাদে মিসবাহ দাবি করেন, তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির এবং শিবিরের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখতেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের ছেলে সালমান। তবে ডিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ডিবি সূত্র আরও জানায়, হাদীর দাফনের সময় সালমানকে কবরের পাশে কান্নারত অবস্থায় দেখা যাওয়াও গোয়েন্দাদের নজর কাড়ে। তবে সালমান এ ঘটনায় জড়িত—এর কোনো প্রমাণ ডিবি এখনও প্রকাশ করেনি।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘হস্তক্ষেপ’ শিবিরের
ডিবি সূত্রের দাবি, মিসবাহকে হেফাজতে নেওয়ার পর জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ারের ছেলে সালমান ও শিবিরের সাবেক ঢাবি সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে যান এবং তাদের চেষ্টায় মিসবাহকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিবি কর্মকর্তাদের বরাতে আরও জানা যায়, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অগ্রগতি থেমে গেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত স্থগিত বা ধীরগতির বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই হামলাকারীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদী।
পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় শ্যুটার ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হলেও ফয়সাল ও আলমগীর এখনো পলাতক।
