নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা হাসান মাহমুদ দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরবে। শনিবার প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের (OHCHR) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ ও ‘একপেশে’ বলে আখ্যা দেন।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এটি ছিল দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রথম প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন। সেখানে হাসান মাহমুদ স্পষ্ট করেন, নির্বাসিত সরকার গঠনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তাঁর ভাষায়, “আমরা দেশে ফিরে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই সরকার গঠন করব, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনকে ‘সাজানো’ ও ‘একপক্ষীয়’ বলে অভিযোগ করেন তিনি। দাবি করেন, আওয়ামী লীগের জনসমর্থন প্রায় ৬০ শতাংশ হলেও দলটিকে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের পরিপন্থী।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত OHCHR প্রতিবেদনের কঠোর সমালোচনা করে হাসান মাহমুদ বলেন, এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সংঘটিত সহিংসতার চিত্র উপেক্ষিত হয়েছে। তাঁর দাবি, আন্দোলন চলাকালে প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং একটি ঘটনায় পুলিশ স্টেশনে আটক প্রায় ৪০ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত হতাহতের সংখ্যার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কিছু হত্যাকাণ্ড স্নাইপারের গুলিতে সংঘটিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অস্ত্র বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে নেই, যা বহিরাগত বা শত্রু উপাদানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
হাসান মাহমুদের অভিযোগ, সাধারণত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের পর এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরি হলেও, এখানে কেবল ইউনূস সরকারের অনুরোধেই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও তথ্য যাচাই না করেই এটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আগস্ট ২০২৪-এর পর শত শত সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সংবাদপত্রের অফিস ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলা হয়েছে এবং প্রায় এক লাখ আওয়ামী লীগ কর্মী কারাবন্দি রয়েছেন। পাশাপাশি সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও হত্যার অভিযোগও তোলেন তিনি।
হাসান মাহমুদ জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ গবেষণা ফাউন্ডেশনের আইনি দলের প্রধান গোলাম মারুফ মজুমদার নিঝুমের সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ সচিবালয়ে জমা দেওয়া হবে, যাতে স্বাধীন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, OHCHR-এর প্রতিবেদনটি ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। তবে ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
