ক্ষমতাচ্যুতির সতেরো মাস পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ প্রথমবারের মতো ভারতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। নয়াদিল্লি থেকে দলটির নেতারা অভিযোগ করেন, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ। তাদের দাবি, জনপ্রিয়তার আতঙ্কে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে আসেন আওয়ামী লীগ নেতা হাসান মাহমুদ ও মোহিদুল হাসান চৌধুরী। তাদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছে। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী হাসান মাহমুদ জোর দিয়ে বলেন, “আমরা নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত, কারণ আমরা সবসময় জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছি। তবে বর্তমান প্রশাসন বহাল থাকলে আওয়ামী লীগ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সফল হবে না।”
বৈঠকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলা হয়, যা নিয়ে ভারত সরকার পূর্বে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছে। ময়মনসিংহ জেলার দীপুচন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে মাহমুদ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। তাদের আরও দাবি, ইউনূসের নির্দেশে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যার অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ জনের মৃত্যু নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের (ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশন ফর হিউম্যান রাইটস) একটি প্রতিবেদন নিয়েও মাহমুদ ও মোহিবুল সমালোচনা করেন। তারা জানান, কমিশনের প্রধান ভলকার টার্কের সঙ্গে কথা হলেও তাদের বক্তব্য রিপোর্টে যুক্ত করা হয়নি।
স্মরণীয় যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা ঢাকা ত্যাগ করে দিল্লিতে আসেন, এবং তারপর থেকে ভারতেই অবস্থান করছেন। যদিও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, ইউনূসের ক্ষমতা গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
