জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী সারজিস আলমের আয় ও সম্পদের তথ্যে গরমিলের তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামা এবং আয়কর রিটার্ন বিশ্লেষণে তার বার্ষিক আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পঞ্চগড়-১ আসনের এই প্রার্থী হলফনামায় নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। অথচ ২০২৫–২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে তার আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা হলফনামায় উল্লেখিত আয়ের তিন গুণেরও বেশি।
শুধু আয় নয়, সম্পদের হিসাবেও অসংগতি রয়েছে। আয়কর রিটার্নে সারজিস আলমের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। কিন্তু হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন তুলনামূলকভাবে অনেক কম সম্পদের তথ্য।
হলফনামা অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের তালিকায় উপহার হিসেবে পাওয়া ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা।
২০২৫–২৬ করবর্ষে তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।
নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীতে সারজিস আলম উল্লেখ করেছেন, চারজন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে (যাঁরা আত্মীয় নন) তিনি ১১ লাখ টাকা উপহার হিসেবে পাওয়ার আশা করছেন। এ ছাড়া একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার তথ্যও দিয়েছেন।
নথিপত্রে আরও দেখা যায়, শ্বশুর-শাশুড়ি ও চাচা-মামাদের কাছ থেকেও তিনি উপহার হিসেবে অর্থ পাচ্ছেন। যদিও ইসি ওয়েবসাইটে আপলোড করা স্ক্যান কপিতে টাকার অঙ্ক স্পষ্ট নয়, দৃশ্যমান সংখ্যার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে প্রত্যেকের কাছ থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি শ্যালকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে অন্তত ১ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্যও রয়েছে।
এ ছাড়া সারজিস আলমের বিরুদ্ধে গাজীপুরে একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
