আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। একাধিক দফা বৈঠক হলেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি জোটের শরিক দলগুলো।
চব্বিশের তথাকথিত গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের মে মাসে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত আন্দোলন ও নেজামে ইসলাম পার্টির মতো ইসলামভিত্তিক দলগুলো নিয়ে এই জোটের যাত্রা শুরু হয়। পরে জাগপা ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি যুক্ত হলে জোটটি আট দলীয় রূপ নেয় এবং বিভিন্ন সময় যুগপৎ কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা যায়।
এরপর অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণ নেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ আরও দুটি দল জোটে যুক্ত হলে আসন সমঝোতা ও নেতৃত্বের প্রশ্ন নতুন করে সামনে আসে। ভোটের রাজনীতিতে কে কত আসনে প্রার্থী দেবে, তা নিয়ে জোটের ভেতরে আলোচনা ও অস্বস্তি বাড়তে থাকে।
জোট সূত্রে জানা গেছে, ১১ দলের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন না পাওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ জোটের কয়েকটি পুরোনো শরিক দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে জোটের বাইরে প্রার্থীদের জায়গা করে দিতে গিয়ে বিভিন্ন আসনে জামায়াতে ইসলামীর নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারাও স্বীকার করেছেন।
আসন বণ্টনের পাশাপাশি জোটের নেতৃত্ব নিয়েও টানাপোড়েন রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের দল এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নেতৃত্বের প্রশ্নে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা বা ‘ঠান্ডা যুদ্ধ’ চলছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
এমন অবস্থার মধ্যেই জোটের সব দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
