২০২৪ সালের জুলাই মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তাঁর দাবি, ওই সময়ের ঘটনা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল উগ্র ইসলামপন্থীদের পরিকল্পিত একটি পূর্ণমাত্রার বিদ্রোহ, যার লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা।
এক বক্তব্যে আরাফাত বলেন, যারা বর্তমানে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করছে, তারা আদর্শগতভাবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীদের উত্তরসূরি। তাঁর অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশেরই একটি অংশ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল এবং সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই এখন গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংসের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এসব গোষ্ঠীর আওয়ামী লীগ ও ভারতের প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে, কারণ মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও ভারতের সহায়তায় তাদের পরাজয় ঘটেছিল।
বর্তমান অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়াই এই ব্যবস্থার প্রকৃত লক্ষ্য নয়। বরং নির্বাচন আয়োজন করা হবে কেবল আনুষ্ঠানিকতার জন্য, যাতে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও তাদের মিত্রদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়।
আরাফাত সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার ঘটনাকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়, আহমদিয়া মুসলিম, খ্রিস্টান এবং স্বাধীনচেতা সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ধারাবাহিক হামলার শিকার হচ্ছে। উগ্র ধর্মীয় মতাদর্শের সঙ্গে যাদের চিন্তা বা জীবনধারা মেলে না, তারাই এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক সংকট নয়, বরং বাংলাদেশের অস্তিত্বের সংকট। রাষ্ট্রের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এই পরিস্থিতি মেনে নেবে না এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যাবে।
আরাফাতের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও উগ্র ধর্মীয় রাজনীতির দ্বন্দ্ব। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ বর্তমানে ক্ষমতায় না থাকলেও জনগণের সঙ্গে রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে আবার রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।
এমন এক সময়ে এই বক্তব্য এলো, যখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও গণতন্ত্র, সংখ্যালঘু অধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সেই উদ্বেগকে আরও সামনে এনে দিয়েছে।
