রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। হত্যার নেপথ্যের কারণও এখনও স্পষ্ট নয়।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক শনিবার জানান, এখনো পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে নাঈম কিবরিয়াকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি প্রাইভেটকার চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তার গাড়ি একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে মারধর করে।
তবে পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। স্বজনরা বলছেন, ‘মব’ তৈরি করে নাঈমকে হত্যা করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাঈম কিবরিয়া পাবনা সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং পাবনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মা আইরিন কিবরিয়া কেকা স্থানীয় যুবলীগের নেত্রী এবং পাবনা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। নাঈমও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যা মামলায় নাঈম আসামি ছিলেন। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে তিনি ঢাকায় আসেন। ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যান। পরে রাতে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার কথা জানান। কিছু সময় পর নাঈমের ফোন নম্বর থেকে একটি কল আসে পরিবারের কাছে। কলদাতা জানান, তিনি রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
নাঈমের খালাতো ভাই শামীম অভিযোগ করে বলেন, নাঈমকে কয়েক দিন ধরে অনুসরণ করা হচ্ছিল বলে তাদের সন্দেহ। এর আগে দুই-তিন দিন আগে মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক পাবনার বাড়িতে গিয়েছিল। তখন বাড়িতে কেউ না থাকলেও প্রতিবেশীদের তারা হুমকি দেয়, নাঈমকে পেলে মেরে ফেলা হবে।
এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
