ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় এখনো শোকে স্তব্ধ ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রাম। গ্রামটিই দিপুর বাড়ি। সেখানেই বসবাস করেন তার বাবা–মা, স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুসন্তান।
দিপুর মা শেফালি রবি দাস ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছেন। স্ত্রী মেঘনা রবি দাস বাকরুদ্ধ। আর দেড় বছরের শিশু রিতিকা রবি দাস এখনো বুঝতে পারেনি, তার বাবা আর কোনো দিন ঘরে ফিরবেন না। বাবার ফেরার অপেক্ষায় তার নিষ্পাপ চোখ বারবার দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে।
ময়মনসিংহ সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মোকামিয়া কান্দা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক বিঘা ফসলি জমির মাঝখানে টিনের ছাপরা ঘরে বসবাস করছে দিপুর পরিবার। সাত সদস্যের ছোট এই পরিবারে এখন নেমে এসেছে নিঃসীম শূন্যতা।
দিপুর মা শেফালি বলেন, “অন্যায়ভাবে আমার ছেলেকে মারা হয়েছে। সংসার দেখার আর কেউ রইলো না। আমরা এখন কীভাবে বাঁচবো।” কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, মৃত্যুর আগের রাতে দিপু তার কাছে বাজারের কথা জিজ্ঞেস করেছিল।
দিপুর স্ত্রী মেঘনা বলেন, “দিপু কোনো ঝামেলার ছেলে ছিল না। আমার শিশুর দায়িত্ব কে নেবে? আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।”
মেঘনার বাবা বাবুরাম দাস দাবি করেন, দিপু কারখানায় সুপারভাইজার থেকে ম্যানেজার পদোন্নতি পাওয়ার পর সহকর্মী মো. এরশাদ ও নিবির ইসলাম অনিক তা মেনে নিতে পারেনি। তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে দিপুকে মারধর করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ধর্ম নিয়ে কটূক্তির গুজব ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গ্রামবাসীরা জানান, দিপু শান্ত ও নিরীহ প্রকৃতির ছিল। গ্রামের কারও সঙ্গে তার কখনো বিরোধ ছিল না। সবাই এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।
তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দিপুর পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। খাদ্যসামগ্রী সহায়তা, একটি ঘর নির্মাণ, বিধবা কার্ড এবং সরকারি চাকরির ব্যবস্থার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজ ও ছবির ভিত্তিতে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরানো হয়। এ ঘটনায় দিপুর ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
