একসময় সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করা তরুণরাই এখন সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে। আন্দোলনের আগে যাদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল না, রাষ্ট্রক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তারাই গড়ে তুলেছেন নতুন রাজনৈতিক দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে প্রার্থী হয়েছেন।
তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য প্রকাশের পর এনসিপির এই আলোচিত নেতাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল ও বিতর্ক। এক সময়ের ‘বেকার আন্দোলনকারীদের’ সম্পদের অঙ্ক অনেকের চোখ কপালে তুলেছে।
নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তবে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ টাকা। পাশাপাশি রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ঋণ।
২৭ বছর বয়সী নাহিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এবং পেশা হিসেবে নিজেকে ‘পরামর্শক’ উল্লেখ করেছেন। বছরে আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
নাহিদ ঢাকা-১১ আসন থেকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী। নিজের নামে নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। তার ও স্ত্রীর নামে প্রায় ১৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারও রয়েছে।
আখতার হোসেন
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নামে কোনো বাড়ি বা গাড়ি নেই। পেশা হিসেবে তিনি নিজেকে শিক্ষানবিশ আইনজীবী উল্লেখ করেছেন। কৃষি, ব্যবসা ও চাকরি থেকে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, তার হাতে নগদ রয়েছে ১৩ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে ৪ লাখ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট গহনার মূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এছাড়া ১৮ শতাংশ কৃষিজমিও রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য মাত্র ২৩ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
রংপুর-৪ আসন থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ
দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ হলফনামায় ৫০ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। তার কোনো জমি বা গাড়ি নেই, তবে স্বর্ণালংকার রয়েছে ২৬ লাখ টাকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর করা হাসনাতের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। কুমিল্লা-৪ আসন থেকে তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী।
সারজিস আলম
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা। হলফনামায় মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা, যদিও আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ টাকার বেশি।
তার নামে কোনো বাড়ি বা গাড়ি নেই। হাতে নগদ রয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। পঞ্চগড়-১ আসন থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
আবদুল হান্নান মাসউদ
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের সম্পদের অঙ্ক সবচেয়ে বেশি। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তিনি প্রায় ৯৮ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছেন।
২৬ বছর বয়সী এই নেতা নিজেকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার কাছে নগদ রয়েছে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার রয়েছে ৮ লাখ টাকার। নোয়াখালী-৬ আসন থেকে তিনি এনসিপির প্রার্থী।
হলফনামায় তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা আলিম (এইচএসসি সমমান) উল্লেখ করেছেন, যদিও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এসব হলফনামা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর দেওয়া তথ্য অসত্য প্রমাণিত হলে নির্বাচিত হলেও তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে।
