হাদী হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি অজ্ঞাত স্থান থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে ঘটনাটিকে একটি ‘চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন।
ভিডিও বার্তায় মাসুদ জানান, তার দুবাইয়ের পাঁচ বছরের মাল্টিপল ভিসা রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন। হাদী হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া মোটরসাইকেলে তিনি ছিলেন না এবং চালকও তার কোনো ভাই নন। তার ভাষায়, তাকে ও তার পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
নিহত হাদীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মাসুদ স্বীকার করেন, ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি একাধিকবার হাদীর অফিসে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, তার একটি আইটি ফার্ম রয়েছে এবং প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অর্থ ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি হাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এ বাবদ ৫ লাখ টাকা অগ্রিম দেন। পাশাপাশি হাদীর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তিনি আর্থিক সহায়তা করেছেন বলে দাবি করেন। হত্যাকাণ্ডের দিন সকালেও তিনি হাদীকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলে ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন।
তবে হত্যার মোটিভ হিসেবে মাসুদ ভিন্ন ইঙ্গিত দেন। তিনি হাদীকে ‘জামায়াতের প্রোডাক্ট’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, হাদীর সঙ্গে জামায়াতের পুরনো যোগাযোগ ছিল এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে তারাই জড়িত থাকতে পারে।
মামলার পর তার পরিবারের সদস্যদের ওপর পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতন চলছে বলেও অভিযোগ করেন মাসুদ। তিনি বলেন, তার পরিবার সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাদের বিরুদ্ধে যে আচরণ করা হচ্ছে, তার তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান।
নিজের আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক হিসাব নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বলেন, তার অ্যাকাউন্টের সব অর্থ বৈধ ব্যবসা ও সরকারি বিলের টাকা। তিনি নিয়মিত করদাতা এবং চলতি বছরে তিনি ৯ লাখ টাকা আয়কর দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
ভিডিও বার্তায় মাসুদ কবে দেশ ছেড়েছেন বা বর্তমানে দুবাইয়ের কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে।
