চিকিৎসকদের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত করানো নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সচেতন মহলের মতে, এটি ছিল মানবিকতার চরম লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত।বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা তাকে জনসমাগমে নেওয়ার বিপক্ষে মত দিলেও অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেনাবাহিনী ও সরকারের সমন্বয়ে তাকে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে হুইলচেয়ারে করে নেওয়া হয়, যদিও তার শারীরিক অবস্থা তখন স্থিতিশীল ছিল না।
সূত্রগুলো আরও জানায়, অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে উল্লেখ করবেন এই বার্তা আগেই দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণাকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতেই খালেদা জিয়াকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হয়।
অনুষ্ঠানের দৃশ্য নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গুরুতর অসুস্থ একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে হুইলচেয়ারে বসিয়ে রাখার সময় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড. ইউনূসের হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশ করা হয়।
এই বৈপরীত্যকে অনেকেই ‘অমানবিক’ ও ‘রুচিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমানে গ্রহণযোগ্যতার সংকটে ভুগছে। সেই সংকট কাটাতে একদিকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন, অন্যদিকে বিএনপির সমর্থনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই প্রক্রিয়ায় একজন অসুস্থ রাজনৈতিক নেতাকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতার সমীকরণ রক্ষায় একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবনঝুঁকি উপেক্ষা করা হলে তা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের গুরুতর ব্যর্থতা হিসেবেই বিবেচিত হবে।
সেনাকুঞ্জের ঘটনাটি অন্তর্বর্তী সরকারের মানবিকতা ও রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
