গোপালগঞ্জে গুলি চালিয়ে চারজন মানুষ হত্যা হওয়ার পর যিনি প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “সাওয়া মাওয়া ছিঁড়ে ফেলাইতে হবে খানকীর পোলাগো” আজ সেই শরিফ ওসমান বিন হাদিই ঢাকায় গুলিবিদ্ধ।
১৬ জুলাই ২০২৫। গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে চারজন নিহত হন। দেশজুড়ে তখন শোক আর ক্ষোভ। ঠিক সেই সময় রাজধানীতে বসে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি আগুনঝরা ভাষায় উস্কানি দেন। গোপালগঞ্জকে মানচিত্র থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন। তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে একে সরাসরি সহিংসতায় উসকানি বলে আখ্যা দেন।
কিন্তু পাঁচ মাস না যেতেই দৃশ্যপট উল্টো। ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার। ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালানো হয় শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষায়, তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
যে গুলির রাজনীতিকে তিনি একসময় ভাষায় উসকে দিয়েছিলেন, আজ সেই গুলিই তাকে শয্যাশায়ী করেছে।
গোপালগঞ্জে চারজন নিহত হওয়ার সময় তার বক্তব্য ছিল প্রতিশোধ, ভাঙচুর আর ধ্বংসের ডাক। নিহতদের পরিবার যখন লাশ দাফনে ব্যস্ত, তখন তিনি বলেছিলেন, ““আগামী ২৪ ঘণ্টায় একশন দেখব একশন । সাওয়া মাওয়া ছিঁড়ে ফেলাইতে হবে খানকীর পোলাগো । বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না যদি গোপালগঞ্জ বাইচে থেকে। গোপালগঞ্জের প্রত্যেকটা উপজেলা ভাগ কইরা পাশে মাদারীপুর, ফরিদপুর প্রত্যেকটা জেলার সাথে অ্যাটাক্টস কইরে দেওয়া লাগবে।”
