নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে খুনের ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই দেশে মোট ৮৫৪টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল ঢাকাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ১০৭ জন। বিশেষ করে এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ঢাকায় ১৬টি খুনের ঘটনা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে মাসভিত্তিক খুনের সংখ্যা যথাক্রমে ২৮৭, ২৫০ ও ৩১৭টি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের এই নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূলে রয়েছে জামিনপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বিদেশে পলাতক অপরাধী চক্রের সক্রিয়তা। সম্প্রতি কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, ইমন ও ইব্রাহিমের মতো তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছে। কারাগারে থেকে কিংবা বিদেশে বসে মোবাইল ফোনে সরাসরি ‘বড় ভাই’ পরিচয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলেই ঘটছে ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’ বা প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার মতো ঘটনা।
রাজধানীর অপরাধ মানচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোহাম্মদপুর ও রায়েরবাজার এলাকা এখন খুনের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পিচ্চি হেলাল ও ইমনের অনুসারীদের দ্বন্দ্বে সেখানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। মিরপুর, পল্লবী ও কাফরুল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে বিদেশে পলাতক মামুন ও কিলার আব্বাসের গ্যাং। কাওরানবাজার ও ফার্মগেট এলাকায় টেন্ডারবাজি ও সবজি ট্রাক থেকে চাঁদাবাজিতে সক্রিয় রয়েছে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর অনুসারী বাদশাহ ও আহাদ গ্রুপ। এসব চক্রের তোলা কোটি কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে দুবাই ও থাইল্যান্ডে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের মুখপাত্র এএইচ এম শাহাদাৎ হোসাইন জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে এবং জামিনপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। অনেক ভুক্তভোগী আতঙ্কে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ফুটপাত, পরিবহন সেক্টর ও সরকারি অফিসের টেন্ডার বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
