ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) স্বপ্ন দেখা অভিবাসীদের জন্য আইনি জটিলতা আরও বাড়তে যাচ্ছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) তাদের বহু আলোচিত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মের অধীনে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের আর্থিক সচ্ছলতা ও সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতা অত্যন্ত কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত আদেশে ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাওয়া প্রবাসীরা যেন মার্কিন করদাতাদের খরচে দেওয়া সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী হয়ে থাকেন—তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। ১৮ সেপ্টেম্বর বা তার পর জমা পড়া প্রতিটি ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ (আই-৪৮৫) আবেদনের ক্ষেত্রে সংশোধিত এই বিধিমালা পুরোপুরি বাধ্যতামূলক হবে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন অভিবাসী ভবিষ্যতে সরকারের আর্থিক বোঝা হবেন কি না, তা নির্ধারণে ইমিগ্রেশন অফিসাররা প্রধানত পাঁচটি বিষয়ের ওপর নজর দেবেন: আবেদনকারীর বয়স, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক কাঠামো, নিজস্ব সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা। এছাড়া আবেদনকারীর স্পন্সরের জমা দেওয়া আর্থিক নিশ্চয়তা বা আই-৮৬৪ ফর্মের সক্ষমতাও গুরুত্ব পাবে।
নতুন নীতি কার্যকরের পর ফুড স্ট্যাম্প, সরকারি আবাসন ভাতা, নগদ আর্থিক সাহায্য কিংবা শিক্ষা অনুদানের মতো সুবিধা গ্রহণ করলে আবেদনপত্র বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে এর আগে গৃহীত সুবিধার ক্ষেত্রে কেবল সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে বিবেচনা করা হবে।
অবশ্য মানবিক বিবেচনায় শরণার্থী বা অ্যাসাইলামপ্রাপ্ত ব্যক্তি, মানবপাচার ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার এবং বিশেষ সুবিধা পাওয়া কিশোর-কিশোরীদের এই কঠোর বিধির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া কোনো আবেদনকারীর ফাইল কেবল সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কায় আটকে গেলে, তাকে ‘পাবলিক চার্জ বন্ড’ বা বিশেষ আর্থিক নিশ্চয়তা জামানত হিসেবে জমা দিয়ে চূড়ান্ত গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
