নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : উচ্চস্বরে গান বাজানোর অহেতুক বাহানা তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে স্থানীয় এক দল উগ্র মাদ্রাসাছাত্র। এই অনাকাঙ্ক্ষিত তাণ্ডবে ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৩ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট, ২০২৬) বিকেলে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পরিদর্শক উত্তম কুমার শর্মা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে পাশের দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার কিছু শিক্ষার্থী গান বন্ধের দাবি তুলে অহেতুক তর্কবিতর্ক শুরু করে। একপর্যায়ে শতাধিক উগ্র ছাত্র সংগঠিত হয়ে জোরপূর্বক পুলিশ লাইন্সের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশের ওপর হামলে পড়ে।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। উগ্র ছাত্রদের প্রাথমিক হামলায় পুলিশের ১০ সদস্য আহত হন এবং পরবর্তীতে লাঠিচার্জে আহত হয় একাধিক শিক্ষার্থী।
জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে ঘটনার সূচনালগ্নে গেটের মূল দায়িত্বে থাকা ৩ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ধর্মান্ধ ও প্রতিক্রিয়াশীলদের এমন উগ্র আক্রমণকে চরম বিশৃঙ্খলা আখ্যা দিয়ে সর্বস্তরের মানুষ অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
