নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ঢাকার ধামরাইয়ে আওয়ামী লীগের নাশকতাবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় একেএইচ পোশাক কারখানার সামনে এই সহিংস সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন এবং ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ থেকেই এ সংঘাতের সূত্রপাত।
বাংলাদেশের ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর অধীন কোনো জনসমক্ষে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, বেআইনি জনসমাবেশ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একইসাথে পুলিশি প্রবিধানমালা অনুযায়ী যেকোনো অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সহিংসতায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি নির্দেশনা রয়েছে।
ধামরাই থানা পুলিশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন যৌথভাবে উক্ত সংঘাতের স্থান পরিদর্শন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আহতদের চিকিৎসার তদারকি পরিচালনা করছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তমিজ উদ্দিনের অনুসারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করার সময় মুরাদের সমর্থকদের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলা চালানো হয়।
সংঘর্ষে আহত সুতিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম (৪৪), স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরীর মেয়ে জামাই জাহিদ, বাবুল ও নাজিরকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ধামরাই থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এলাকায় চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করায় বালিথা ও সুতিপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ধামরাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পর্যালোচনা করে আইনি প্রক্রিয়া সাপেক্ষে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
