ফোরটিন ডেস্ক : পারিবারিক বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন করতে পারবেন কি না—এমন বহুল আলোচিত প্রশ্নের স্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশিষ্ট ইমিগ্রেশন আইনজীবী অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী। নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেবল কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া যায় না।
ভিডিওতে মইন চৌধুরী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আইন পেশায় যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এলডিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, অ্যাসাইলাম আবেদনের মূল ভিত্তি হলো আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, তাঁর ওপর নেমে আসা সুনির্দিষ্ট নির্যাতন এবং তাঁর স্বপক্ষে উপস্থাপিত শক্তিশালী প্রমাণাদি।
মইন চৌধুরীর ভাষ্যমতে, আবেদনকারী যে দলেরই সমর্থক বা কর্মী হোন না কেন, তাকে আদালতে শক্তভাবে প্রমাণ করতে হবে যে—তিনি নিজ দেশে তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে অতীতে সরাসরি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিংবা দেশে ফিরলে ভবিষ্যতেও প্রাণনাশের বা নির্যাতনের প্রত্যক্ষ আশঙ্কা রয়েছে। পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারলে তবেই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কোর্টে ইতিবাচক ফলাফল আশা করা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আইনে প্রতিটি মামলা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে মূল্যায়ন করা হয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ঢালাওভাবে আবেদন মঞ্জুর করার বিধান সেখানে নেই।
বক্তব্যের শেষাংশে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়ে এই অভিজ্ঞ অ্যাটর্নি বলেন, অ্যাসাইলামের আবেদন করার পূর্বে নিজের মামলার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, এফআইআর-এর কপি, পত্রপত্রিকার কাটিং, মেডিকেল রিপোর্ট কিংবা অন্যান্য প্রত্যক্ষ প্রমাণাদি আগে থেকেই যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা আবশ্যক। প্রমাণ ছাড়া শুধু মুখের কথায় যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
