নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল : ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ছাত্রদলের ক্যাডারদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রক্টর ও উপাচার্যের চোখের সামনেই সংঘটিত এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতিসহ উভয় পক্ষের একাধিক নেতাকর্মী মারাত্মক আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট, ২০২৬) সকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিসি গেট সংলগ্ন এলাকায় এ নজিরবিহীন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে ক্যাম্পাসে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি স্মরণে ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির আয়োজন করে ববি শাখা ছাত্রশিবির। কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী এসে তথাকথিত ‘সরকারবিরোধী ও উসকানিমূলক’ স্লোগান দেওয়ার অজুহাতে শিবিরের মিছিলে বাধা সৃষ্টি করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চড়াও হলে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু বলেন, “আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা ও সুবিধাভোগীরা জুলাইয়ের মতো একটি পবিত্র ঐতিহাসিক স্মারক কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে। সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের সামনেই শান্তিকামী সাধারণ শিক্ষার্থী ও আমাদের ওপর এই হামলা চালাল ছাত্রদল।”
অন্যদিকে নিজেদের দায় এড়িয়ে ববি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত পাল্টা দাবি করেন যে, শিবিরের কর্মসূচিতে বহিরাগতদের আনা হয়েছিল এবং তারা বিভ্রান্তিকর স্লোগান দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য দিবালোকে এ ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনা সম্পর্কে জানতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদকে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
