নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরে সাবেক স্ত্রী সালেহা বেগমকে মাত্র ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করানোর অভিযোগে জামায়াতের সাবেক রুকন আবু বক্কর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বিয়ের কথা গোপন রেখে স্ত্রীর কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর, সেই টাকা ফেরত না দিতেই তিনি এই পৈশাচিক খুনের নীল নকশা তৈরি করেন।
সোমবার লক্ষ্মীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক সাদেকুর রহমান জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন আবু বক্কর সিদ্দিক পূর্বের পরিবারকে গোপন রেখে সালেহা বেগম নামের এক বিধবা নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরত না দিয়ে সালেহাকে তালাক দেন তিনি। সালেহা বেগম পাওনা টাকার জন্য চাপ দিলে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করেন এই জামায়াত কর্মী।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মো. সেলিম নামের এক পেশাদার খুনিকে ভাড়া করেন আবু বক্কর। ২০২৫ সালের ১৫ জুন রাতে কৌশলে সালেহাকে মেঘনা নদীর তীরে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় এবং নিহতের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার লুট করে বিক্রি করে দেয় খুনি সেলিম।
পরদিন ১৬ জুন পুলিশ লাশ উদ্ধার করলে নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে কমলনগর থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ সেলিমকে গ্রেপ্তার করলে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জামায়াত কর্মী আবু বক্করের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও নির্দেশনার কথা প্রকাশ করে। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করে।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার এড়াতে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন আবু বক্কর। এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বে দলটির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ধার্মিকতা ও রাজনীতির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এমন জঘন্যতম অপরাধের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
