নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় একাদশের এক কলেজছাত্রীকে চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিয়ের ভুয়া প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে হুমায়ুন আহমেদ (৩০) নামে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট, ২০২৬) সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের বাজার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত হুমায়ুন আহমেদ সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমামতির সূত্রে মসজিদের পাশের এক পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন হুমায়ুন। পরবর্তীতে ওই পরিবারের দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৮ বছর বয়সী মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত মে মাসের ২৪ তারিখ রাতে মেসেজ পাঠিয়ে নিজের কক্ষে ডেকে এনে মেয়েটিকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন এবং কাউকে না বলার জন্য চাকু দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে ১৭ জুলাই দুপুরে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবারও নিজের কক্ষে এনে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করেন।
মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দিলে হুমায়ুন সরাসরি অস্বীকৃতি জানান এবং ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে গত মাসের শেষ সপ্তাহে মেয়েটি চরম অসুস্থ হয়ে পড়লে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখনই পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা উন্মোচিত হয়।
এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বিশ্বম্ভরপুর থানাকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।
