নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হতে যাওয়া ‘জুলাই -অভ্যুত্থান দিবস’-এর পূর্বমুহূর্তে রাজশাহী মহানগরজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা ও কৌতূহল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে ‘৫ আগস্ট জাতীয় পুলিশ হত্যা দিবস’ শিরোনামে বেশ কিছু রহস্যজনক পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।
পোস্টারগুলোতে ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাই’ স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন সংবেদনশীল ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পোস্টারের নিচে সৌজন্যে ‘জুলাই-আগস্ট সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি’ নামের একটি অজ্ঞাত সংগঠনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এমন এক সময়ে এই পোস্টারগুলো সামনে এল, যখন আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট, ২০২৬) দেশজুড়ে সাড়ম্বরে উদযাপিত হতে যাচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস। সরকার, প্রশাসন ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন, সভা ও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ নামে কোনো দিবস স্বীকৃত না থাকা সত্ত্বেও নগরীর সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিয়মিত পুলিশি টহলের আওতাধীন এলাকাগুলোতে রাতের আঁধারে কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক উসকানিমূলক পোস্টার লাগানো হলো, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক দিবসকে কেন্দ্র করে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। উসকানিমূলক এসব তৎপরতা বন্ধে ও জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ‘পুলিশ হত্যা দিবস’ নামে রাষ্ট্রীয় কোনো দিবস নেই। পোস্টারগুলো কারা এবং কী উদ্দেশ্যে লাগিয়েছে, তা অনুসন্ধানে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
