প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া, দিল্লী। এইখানে ১৩-ই মার্চের একটি ‘কথিত মিটিং ঘিরে জুলকারনায়েন সায়ের একটি লেখা লিখেছেন যেখানে তিনি লাইনে লাইনে ভুল তথ্য দিয়েছেন।
সবচাইতে বড় ভুল তথ্য দিয়েছেন মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছান মাহমুদকে নিয়ে যিনি এখানে ছিলেনই না।
তবে একই সাথে এটা একটা ট্র্যাপও। কেন ট্র্যাপ সেই বিষয়ে আমি কিছু বলবো না। সব কিছু বলার দরকার নাই। যারা বুঝবার তারা বুঝলেই হলো।
তবে এই দিন কি হয়েছিলো আমি বলছি সে বিষয়ে-
সায়ের সাহেব দাবী করেছেন মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাহেব এই দিল্লীর সভায় ছিলেন। জানিয়ে রাখি, এটা ভুল তথ্য। মন্ত্রী মহোদয় ভারতে নেই। অন্য দেশে রয়েছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দুইজন শীর্ষস্থানীয় নেতা দিল্লীতে এসেছিলেন যেমনটা তাঁরা অন্য সময়ে আসেন। এখানে লুকোছাপার একদম কিছু নেই।
তাঁদের এইবারের সফরের একটা সেগমেন্ট ছিলো ভারতীয় সাংবাদিকদের সাথে বসা, সৌজন্য সাক্ষাত, কুশলাদি বিনিময় ইত্যাদি। এই প্রোগ্রাম এরেঞ্জড করা ছিলো এই প্রেস ক্লাবের লাউঞ্জে।
আমন্ত্রিত সাংবাদিকরা সবাই এসেছেন তবে কেউ কেউ আগে ভাগে চলে গেছেন, কেউ একটু পরে এসেছেন এমন ছিলো। সেখানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দুজন নেতা ছাড়াও আমাদের আরো কয়েকজন ভাই-ব্রাদাররা ছিলেন। নাম জানার দরকার নাই আপনাদের। কারন তাতে আপনাদের কিছুই আসবে যাবে না।
প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়াতে আপনি যদি কখনো যান, আপনি দেখবেন ঢুকেই হাতের বামে শত শত সাংবাদিক বসে থাকেন, আড্ডা দেন, পান করেন, গল্প করেন।
বিশাল এক খেলার মাঠের মত যায়গা। সেই বড় স্পেসের পাশেই লাউঞ্জ যেখানে এই ধরনের ইফতার, ডিনার, লাঞ্চের প্রোগ্রাম থাকলে সেখানেই ব্যবস্থা হয়।
নানক ভাইকে যেহেতু ছবিতে দেখা গেছে, ফলে তিনি তো ছিলেনই। সাথে আরেকজন ছিলেন। যেহেতু তাঁকে ছবিতে দেখা যায়নি ফলে আমি নাম বলবো না।
নানক ভাই সেই লাউঞ্জ রুম থেকে বের হয়ে এক সাংবাদিককে বিদার দিতে বের হয়েছিলেন। তখন সেখানে ওপেন স্পেসে বসে থাকা দিল্লি ইউনিভার্সিটির এক বাংলাদেশী ছেলে লুকিয়ে ছবি তোলে।
ভাবখানা এমন যেন বিশ্ব জয় করে ফেলেছে। অথচ, নানক ভাইকে গিয়ে বললেই তিনি হাসিমুখে সেলফি তুলতেন এই ছেলের সাথে।
শত শত মানুষের মধ্যে কেউ গোপন মিটিং করতে আসে?
বলা হচ্ছে ভারতীয় সরকারী কর্মকর্তারা নাকি এখানে আসেন নি, কারন তারা আওয়ামীলীগকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।
ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সাথে মিটিং থাকলে তারা প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার মত জনারণ্য যায়গাতে সাংবাদিকদের খনিতে আসবেন, এটা বিশ্বাসযোগ্য?
ভারতীয় সাংবাদিকরা যেখানে সংবাদ খুঁজে বেড়ায় অলিতে গলিতে, সেখানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতারা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের সাথে দেখা করবেন পাবলিক প্লেসে, তাও সাংবাদিকদের কোলে এসে?
ভাই, আপনারা পারেনও।
আর আওয়ামীলীগকে ভারত ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে, সভাতে কেউ আসেনি এগুলা বলে, লিখে কেউ যদি আরাম পায়, নিজের মনটা ঠান্ডা করতে পারে। আমার আপত্তি নেই।
একদম ঠিক। আমাদেরকে সবাইকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে ভারত। আমাদের দিকে আর তাকায় না। এইবার ‘মাতা টান্ডা করে থানায় কেচ করেন’ ছোট ভাই।
শেষ করার আগে একটা গল্প বলি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ আমি নিউ ইয়র্কে যাই। ইউনুস জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে একই সময় সেখানে ছিলো। ওই যে, ভ্যবলা আখতারকে ডিম মারা কেইস, আপনারা অনেকেই মনে করতে পারবেন
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যে আমি ও আমরা বীরদর্পে ইউনুসের হোটেলের সামনে গিয়ে দলবল সহ প্রতিবাদ করি। খুনী ইউনুসের ব্যাপারে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বক্তব্যও দেই। সব কিছুই প্রকাশ্যে করি।
তো কয়েকদিন পর দেখলাম, আমাকে নিয়ে একটা নিউজ প্রকাশ করেছে এক টোকাই। শিরোনাম হচ্ছে, ‘জোরে জোরে দৌড়ে রাস্তা পার হলেন নিঝুম মজুমদার’
নিউজ পড়ে আর ভিডিও দেখে হাসতে হাসতে শেষ।
ইউনুসের হোটেলের সামনের রাস্তা পার হয়েছি টাইমস স্কোয়ারে যাবো বলে। তো এই পার হবার সময় কেউ পেছন থেকে ভিডিও নিয়ে, তার ফেসবুকে ছাড়ে উপরের শিরোনাম দিয়ে।
ভিডিও দেখে আসলেই আমার মনে হয়েছে আমি অনেকটা দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছি। দেখে মনে হতে পারে, খুব সম্ভবত ভয়ও পেয়েছি। কারন চারিদিক থেকে গাড়ি আসছিলো।
টোকাইটা কয়েক মিলিয়ন ভিউ দিয়ে কিছু টাকা কামিয়ে নিলো আমার রাস্তা পার হবার ভিডিও দিয়ে, এটাই হচ্ছে বুদ্ধি। তারিফ করতেই হয়।
তো দিল্লী ইউনিভার্সিটির যে বাংলাদেশী ছেলেটি এই ছবিটা টেবিলের নীচ দিয়ে, হাতের ফাঁক দিয়ে তুল্লেন, তিনি মনে করলেন তিনি বিরাট কাজ করলেন। ব্যাস ছবি দিলেন সায়েরের কাছে।
এখন এর বিনিময়ে সায়ের ছেলেটিকে টাকা দিয়েছেন কিনা আমি জানিনা। তবে সায়ের তার সোর্সের জন্য ভালো টাকা খরচ করে। আমি জানি।
যারা কাজটা করেছে তারা আসলে আওয়ামীলীগের উপর রাগ থেকে করেনি। করেছে তাদের আরেক এন্টি গ্রুপ এই মিটিং-এ ছিলো, এই রাগে।
তাদের কথা হচ্ছে এত বই লিখলাম, এত সেমিনার করলাম, এত কিছু করলাম কিন্তু লাইম লাইটে আসতে পারলাম না। তাহলে দেই প্যাঁচ লাগিয়ে।
এই হচ্ছে পুরা ঘটনা। এর বাইরে বাকিটা আপনার কল্পনা।
