ভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদি। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুই যুবক তার রিকশার দিকে গুলি ছোড়ে। মাথায় বুলেট লাগায় তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে তাকে দ্রুত এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায় তার অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
হাদির নাম দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত বিতর্কিত। তার কড়া ভাষা, আচরণ ও পোশাকের কারণে অনেকেই তাকে শিবির বা হিজবুত তাহরীর–ঘনিষ্ঠ মনে করেন। তবে তার সহকর্মীরা দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে ছিলেন না।
ঘটনার পরপরই ছাত্রশিবিরের নেতা এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম প্রথমে বিএনপিকে দায়ী করে পোস্ট দেন। মুহূর্তেই শিবির ও জামায়াতপন্থী অ্যাকাউন্টগুলো সোশাল মিডিয়ায় একই ভাষার পোস্টে ভরে যায়। তাদের দাবি, বিএনপি এই হামলার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এদিকে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন, ঘটনা উল্টোভাবে ব্যবহার করে জামায়াতই যেন সুবিধা নিতে চাইছে।
কিছুক্ষণ পর সাদিক পোস্ট পরিবর্তন করে এবার ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’কে ইঙ্গিত করেন। তার ভাষায়, তফসিল ঘোষণার পরদিন এমন হামলা নির্বাচন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে এবং সরকারকে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করতে হবে।
ঢাকা মেডিকেলে হাদিকে দেখতে গিয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তার বক্তব্যেও বিএনপির প্রতি তির্যক ইঙ্গিত ছিল। তিনি বলেন, নতুন করে সন্ত্রাস বা ফ্যাসিবাদের রাজত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণ কঠিন জবাব দেবে।
জামায়াতের ঘনিষ্ঠ এবি পার্টিও বিবৃতি দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি হামলার নিন্দা জানান এবং বলেন, যেসব গোষ্ঠী গত এক বছরে প্রকাশ্যে নির্বাচন ঠেকানোর হুমকি দিয়েছে, তারাই দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইছে। তারেক রহমান সবাইকে শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জাসদও ঘটনাটিকে নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে করা পরিকল্পিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নির্বাচনী পরিবেশ আতঙ্কিত করার জন্য সুসংগঠিত অপচেষ্টা।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি দ্রুত ট্রেন্ডিং হয়ে ওঠে। অনেকে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলছেন—কে কাকে ফাঁসাতে চাইছে?
সরকার জানিয়েছে, হামলাকারীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
