রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বালুর মাঠে এক মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস একাত্তরের রাজাকার এবং আলবদর ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অবস্থানকে সমর্থনযোগ্য বলে মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির ভূমিকাকে তুলে ধরেন। মির্জা আব্বাস বলেন, সেসময় রাজাকার ও আলবদরদের পরিচয়ে থাকা ব্যক্তিরা দেশের মানুষ এবং নারীদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল, অথচ আজ তারা ভোট চাইতে মাঠে নেমেছে। তার প্রশ্ন, তারা কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছিল?
আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ একটা অসভ্য দল। জামায়াতের ওষুধ হলো আওয়ামী লীগ। তাদের জন্য আওয়ামী লীগই ঠিক ছিল। কারণ, তারা সভ্যদের সঙ্গে চলতে পারে না। আমরা আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করতে পারি না বলেই ওদের কণ্ঠস্বর এত উঁচু।”
দেশের রাজনীতিতে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অনেক শিক্ষিত নয়। তবে বোকা নয়। এসব করে দেশের মানুষকে বোকা বানানো যাবে না।”
জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে আব্বাস দাবি করেন, “এরা মওদুদীবাদে বিশ্বাস করে, ইসলামের প্রকৃত চেতনায় বিশ্বাস করে না। এদের শুধু মুসলমানের লেবাস আছে। নির্বাচন সামনে রেখে কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।”
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বক্তৃতায় এমন পর্যায়ের মন্তব্য এসেছে যেখানে ভোট না দিলে জান্নাত বা জাহান্নামের কথা বলা হচ্ছে, এমনকি কুপিয়ে মারার হুমকিও শোনা যাচ্ছে।
গত বছরের ৫ আগস্টের ঘটনার পর দেশে ধর্মীয় রাজনীতি আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু ইসলামপন্থী দলগুলিই নয়, বিএনপির বক্তব্যেও ধর্মীয় সুর দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এক বক্তব্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বলেন, ক্ষমতায় গেলে তারা ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে ‘ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ’ গঠন করতে চান।
