বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনা জোরদার হয়েছে। লন্ডনে প্রায় দেড় দশক ধরে অবস্থান করা বিএনপি নেতা দেশে ফেরার কোনো ঘোষণা না দিলেও সম্প্রতি দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
দলীয় সূত্র বলছে, আদালতের রায়, চলমান মামলাসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে তারেক রহমানের দেশে ফেরা এখনো অনিশ্চিত। বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য না করলেও তারা দাবি করছেন, “রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হলে” তিনি দেশে ফিরবেন। তবে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে—তারেক রহমানের দেশে ফেরা তাঁর আইনি বাধ্যবাধকতা ও রায় বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন না হলে তাঁর দেশে ফেরা এখনই প্রত্যাশিত নয়। এক বিশ্লেষক বলেন, “আইনি-রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে তাঁর জন্য পরিস্থিতি জটিলই রয়ে গেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই দেশে ফিরতে হলে বড় ধরনের আপোস বা পরিবেশ পরিবর্তনের দরকার।”
অন্যদিকে, বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁর সক্রিয়তা দলীয় নেতৃত্বে শক্তি যোগালেও দেশে সরাসরি নেতৃত্বের অভাব মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। ফলে সামনে নির্বাচন বা বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন এলে দেশে ফেরার আলোচনাও নতুন মাত্রা পেতে পারে।
সরকারে থাকা অবস্থায় তার এবং তার সহযোগীদের সীমাহীন দুর্নীতি এবং ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনাকারীসহ দেশ বিরোধী অনেক কর্মকাণ্ডের ফলে ১/১১ এর পরে গ্রেফতার হন এবং জীবনে আর কোনদিন রাজনীতি করবেন না মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমান। তার দেশের না ফেরার পিছনে এসব জড়িত কিনা সেটা নিয়েও আছে সন্দেহ।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এখনো অনিশ্চিত এবং বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনি দুই প্রেক্ষাপটেই আলোচনার বিষয় হয়ে আছে। দেশে ও বিদেশে থাকা বিএনপি সমর্থকরাও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।
