লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিএনপি নেতা আবুল কালামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় এক ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় আধঘণ্টা পর অভিযুক্ত কাউছার হোসেন তার ফেসবুক আইডিতে ক্রিকেট খেলার একটি ভিডিওসহ ‘আউট’ লিখে পোস্ট করলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত ব্যক্তির পরিবার বলছে, এই পোস্টটি হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করেই দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চন্দ্রগঞ্জের মোস্তফার দোকান এলাকায় এই খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কালাম স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার পরিবারের অভিযোগ, এলাকার প্রভাব বিস্তার নিয়ে ছাত্রদল কর্মী কাউছারের সঙ্গে কালামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।
নিহত কালামের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার দাবি করেন, কাউছারের ফেসবুক পোস্টটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীকে খুন হওয়ার পর কাউছারের পোস্ট করা ভিডিওটি হত্যার ঘটনাকে ইঙ্গিত করেই করা হয়েছে।’
‘কে এম বাদল’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রামের কয়েকজন ক্রিকেট খেলছেন এবং একজন রানআউট হয়েছেন। তবে ভিডিওতে কাউছারকে দেখা যায়নি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কাউছার হোসেন মুঠোফোনে জানান, তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তার দাবি, ‘ঘটনার সময় আমি লতিফপুর বাজারের মোস্তফার দোকানে বসে ছিলাম। কালাম ভাই বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার সঙ্গেই বাজারে ঘোরাফেরা করেছেন।’ ফেসবুকে ‘আউট’ লেখা পোস্টের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়ির সামনে আমি ক্রিকেট খেলেছি, সেই ভিডিও দিয়ে আউট লিখেছি।’
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফয়েজুল আজীম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে কাউছারের জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তাঁর “আউট” লেখা ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। চার-পাঁচজন দুর্বৃত্ত ঘটনাটি সংঘটিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত কাউছার একটি হত্যা মামলারও আসামি এবং তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। নিহত কালামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর রাতেই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিন দিনের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।