নিজস্ব প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর : খাবারের বকেয়া ২০ হাজার টাকা পরিশোধের তাগিদ দেওয়ায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতের এক নেতার বিরুদ্ধে। টানা তিন দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল পচে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
অভিযুক্ত সাইয়্যেদ জাহেদ ইজ্জুদ্দীন তাহের জাবিরী আল মাদানী জামায়াত মনোনীত উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং স্থানীয় হায়দারগঞ্জ বাজার বড় মসজিদের খতিব। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার হায়দারগঞ্জ বাজারের ‘ঘরোয়া ফুড অ্যান্ড কাবাব ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন।
লিখিত অভিযোগ ও মালিকপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জাহেদ নিয়মিতভাবে একা কিংবা অতিথিদের নিয়ে ওই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতেন। দীর্ঘদিন ধরে বাকিতে খাওয়ার অভ্যাসের কারণে প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা বকেয়া জমে। বারবার চাওয়ার পরও তিনি সেই অর্থ পরিশোধ করছিলেন না। অভিযোগ উঠেছে, গত ২৭ অক্টোবর জাহেদ অন্তত ১২ থেকে ১৩ জন লোক সঙ্গে নিয়ে রেস্টুরেন্টে এসে বকেয়া চাওয়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর ও মূল দরজায় তালা ঝুলিয়ে কর্মচারীদের জোরপূর্বক বের করে দেন। ঘটনার কিছু অংশের দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও জানিয়েছে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।
ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন জানান, বকেয়া অর্থ চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। তিন দিন ধরে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় একদিকে ফ্রিজের মজুতকৃত কাঁচামাল পচে গেছে, অন্যদিকে দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়ে তিনি নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাইয়্যেদ জাহেদ ইজ্জুদ্দীন তাহের জাবিরী দাবি করেছেন, তিনি রেস্টুরেন্টে কোনো তালা দেননি; বরং শাহাদাত নিজেই তালা ঝুলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। উল্টো ব্যবসায়ীর কাছেই তাঁর পাওনা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নির্মল ত্রিপুরা জানান, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে শনিবার (৩১ অক্টোবর) থানায় উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে।
