নিউইয়র্ক, ২৯ অক্টোবর ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের অবদান, সাফল্য ও সম্মানকে তুলে ধরার প্রত্যয়ে নিউইয়র্কে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে সেলিব্রেশন ২০২৬। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উডসাইডের কুইন্স প্যালেস পার্টি হলে এ উপলক্ষে সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এটর্নি মইন চৌধুরী।
উপস্থাপনা করেন প্রবাসের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব রকি আলিয়ান।
অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আবাসন খাত, ব্যবসা, চিকিৎসা ও কমিউনিটি নেতৃত্বে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কারেন গোপে, কুইন্স কাউন্টি সারোগেটস কোর্টের বিচারক ক্যাসান্দ্রা এ. জনসন, রিয়েল এস্টেট খাতের নেতা রব চৌধুরী, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) ইন্সপেক্টর আদিল রানা ও ইন্সপেক্টর খন্দকার আবদুল্লাহ, জ্যাকসন হাইটস ইন্ডিয়ান মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিব দাস এবং চিকিৎসক ও কমিউনিটি নেতা ডা. মোহাম্মদ এনামুল হক। উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট জাজ ক্যান্ডিডেট এডউইন নোভেলো, ডেমোক্রেটিক প্রার্থী গ্রেস মেং সহ নিউ ইয়র্কের মূলধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

অভিবাসীদের অবদান ও স্বীকৃতির ওপর গুরুত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, জননিরাপত্তা, চিকিৎসা ও কমিউনিটি গঠনে অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশায় সফল ব্যক্তিদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অভিবাসী সমাজের অর্জন ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান পর্বের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনও ছিল। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এক মঞ্চে সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি অভিবাসী কমিউনিটির অর্জন উদ্যাপনের একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। নিউইয়র্কের উডসাইডে অবস্থিত কুইন্স প্যালেস পার্টি হলে আয়োজিত এ উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে অভিবাসীদের অবদান, মর্যাদা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আসে।
ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে সেলিব্রেশন ২০২৬ অভিবাসী সমাজের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশা ও কমিউনিটির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও সম্প্রীতি জোরদারের একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবশেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এতে নৃত্য পরিবেশন করেন লিয়ানা, সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব, কামরুজ্জামান বকুল, আফতাব জনি ও প্রেমা। সাংস্কৃতিক পর্ব উপস্থাপনা করেন বাবু জামান। অনুষ্ঠান শেষে কেক কেটে ইমিগ্রেশন ডে উদযাপনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন প্রবাস বন্ধু এটর্ণী মঈন চৌধুরী।
