ফোরটিন ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেওয়ার কোনো প্রস্তাব, চুক্তি কিংবা আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি টোকিওতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর জাপানের এই সুস্পষ্ট খণ্ডন ঢাকার নিজস্ব কূটনৈতিক ব্রিফিং ও আগাম প্রচারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।
গত ২৭ অক্টোবর টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই শীর্ষ বৈঠকের পর বিভিন্ন মাধ্যমে ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়টি প্রচার করা হলেও জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সচিব কিটামুরা তোশিহিরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে ১ লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা কিংবা সম্মতি হয়নি। জাপানি পক্ষের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত যোগাযোগ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার তথ্য তুলে ধরা হলেও কর্মী নিয়োগের কোনো নির্দিষ্ট কোটা বা সংখ্যার উল্লেখ ছিল না।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে “এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট” শীর্ষক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে, তবে সেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার কোটা নির্ধারণ করা হয়নি।
মূলত ২০২৫ সালের মে মাসে টোকিওতে একটি বেসরকারি জাপানি ব্যবসায়িক জোটের সাধারণ এক মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে ওই ১ লাখের পরিসংখ্যানটি সামনে আসে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফরের আগে ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র ও দেশীয় গণমাধ্যমে বিষয়টিকে জাপানের চূড়ান্ত ও নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি হিসেবে ব্যপকভাবে তুলে ধরা হয়।
বন্ধুপ্রতীম দেশটির সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আগে এমন অপরিপক্ব ও বিভ্রান্তিকর ব্রিফিংয়ের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকার কূটনৈতিক পেশাদারি নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নিজস্ব প্রত্যাশাকে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হিসেবে প্রচার করার এই ভুল কৌশল ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের কূটনৈতিক সমঝোতা এবং সাধারণ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি করতে পারে।
