রাজনৈতিক ডেস্ক : ডিসেম্বরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের আলোচনার মধ্যেই এবার বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপে গেল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টারদের (Special Rapporteurs) কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন দলের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে মৌলিক মানবাধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে দাবি করে এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এর এক প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার এই চিঠির বিস্তারিত বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ এবং তা বলবৎ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১২ মে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপপ্রয়োগ ঘটিয়ে দেশের প্রাচীন ও অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে সেটিকে স্থায়ী রূপ দেয়।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরিকল্পিতভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। ফলে ওই নির্বাচন কোনোভাবেই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারেনি এবং দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতির অভিযোগ, এই রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের সংবিধানে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন গড়ার স্বাধীনতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। চিঠিতে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর অব্যাহত নিপীড়ন-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার কারণে ন্যায়বিচার ও আইনি সুরক্ষার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে আনা হয়।
চিঠির শেষাংশে শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ দমন ও মানবাধিকার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা এবং একটি ন্যায্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিশেষ র্যাপোর্টারদের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান। একই সাথে বাংলাদেশে সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জাতিসংঘ থেকে প্রকাশ্য বিবৃতি ও ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে সংলাপ ও জাতীয় পুনর্মিলনের যে প্রস্তাব শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন, এই চিঠি তারই কূটনৈতিক ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
