নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদ্রাসাশিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে অপরাধের তুলনায় ওই শিক্ষকের ওপর চড়াও হওয়া বা মারধর করাকে অতিরিক্ত বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ বলেন, মাদরাসা ভাঙচুর করবে কেন? তার বাপের প্রতিষ্ঠান নাকি এটা? উনি চুমু দেন নাই, দেওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন। একজন ওস্তাদ, তার শিক্ষক তাকে কতটুকু ভালোবাসার পরে সে বলছে—রেজাল্ট ভালো হওয়ার পরে তোমাকে একটা চুমু দেব।
নিজের সমর্থনে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এখন আমি যদি এই কথা বলি যে আমাদের অনেক বাচ্চাদেরকে আমি চুমা দিছি, তাইলে আমারে মারার সাহস আছে? ওরে তো আমারে মারার আগে ওরে খতম করে ফেলতো।
ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগকে লঘু করে দেখিয়ে তিনি আরও বলেন, যদি ওই হুজুরের বিরুদ্ধে এমন কোনো দোষ পাওয়া যায়, তিনি ধর্ষণ করেছেন বা করতে পারেন, তাহলে এমন মারা ঠিক ছিল। কিন্তু একটা চুমু দিবে এমন কথা বলার পরে এভাবে মারে কিভাবে?
এর আগে গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপড়া এলাকার ‘করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা’য় ছয় বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনকে চড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
মূলত ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই হাফেজ ক্বারী জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ এই সংবাদ সম্মেলন করেন, যেখানে তাঁর এমন বিতর্কিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
