নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা : বরগুনার আমতলী উপজেলার ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অপরাধে চার শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে দিনভর আটকে রেখে নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীদের আমতলী থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৩৫ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের আইনগত সুরক্ষা এবং বিচারবহির্ভূত শারীরিক নির্যাতন বা হেনস্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বরগুনা জেলা পুলিশ এবং আমতলী থানা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিএনপি নেতা জালাল উদ্দীন ফকিরের বক্তব্যের পরপরই কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে সামাজিক মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তী দিন শুক্রবার কলেজ প্রাঙ্গণ ও জুমার নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী, সুজা, আসিফ ও তামিম নামের চার শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়া হয়।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে তাঁদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নির্যাতন অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, স্লোগান দাতাদের কেবল দলীয় কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং পরে তাঁদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানিয়েছেন, আটককৃত চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক স্লোগান কেন্দ্র করে এই ধরনের বলপ্রয়োগ ও নির্যাতনের ঘটনা স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
