জেলা প্রতিনিধি: সরকারি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আর্থিক ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ নারীদের একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়া শহরে আয়োজিত এই প্রতিবাদ মিছিলে এসে প্রতারিত ও বিভ্রান্ত হয়েছেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী কয়েকজন নারীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় ও তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গত বুধবার (৭ই অক্টোবর) বিকেলে এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া পৌরসভার ‘বিজয় উল্লাস চত্বর’ থেকে এনসিপির সহযোগী সংগঠনসমূহের ব্যানারে এই মিছিল বের করা হয়।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের আইনি সুরক্ষা ও মর্যাদা পাওয়ার অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে এবং অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী বাক-স্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেকের নিজস্ব ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। একই সাথে অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির (Penal Code, 1860) সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্থানীয় পর্যায়ে জনসাধারণের নিরাপত্তা বিধান ও রাজনৈতিক কর্মসূচির স্বচ্ছতা তদারকির প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে নিয়োজিত।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, সরকারি ট্রেনিং ও ভাতা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে তাঁদের পৌরসভায় এনে জোরপূর্বক মিছিলের সামনে হাঁটিয়ে নেওয়া হয় এবং কোনো টাকা না দিয়ে উদ্যোক্তারা পালিয়ে যান।
জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, শ্রমিকশক্তি ও নারীশক্তির যৌথ ব্যানারে আয়োজিত এই মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাঁচ রাস্তার মোড়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মানুষ সমাবেশের অপকৌশল নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন ও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা জানান, এটি তাঁদের মূল দলের কর্মসূচি ছিল না এবং দল কোনো ধরনের প্রলোভনের রাজনীতি সমর্থন করে না; বিষয়টি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে।
প্রতারণামূলক কৌশলে রাজনৈতিক সমাগম ঘটানোর বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
