আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মার্বেল হিল এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুর উপস্থিতিতে গাড়িতে থাকা এক ব্যক্তির ওপর ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সংঘটিত এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নগর প্রশাসন ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি একে অত্যন্ত গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে সিটিতে আইসিইর সব ধরনের অভিযান অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী (Fourteenth Amendment) অনুযায়ী দেশটির সীমানায় অবস্থানরত প্রতিটি নাগরিক ও অভিবাসীর জীবনের সুরক্ষা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া (Due Process) পাওয়ার সুনির্দিষ্ট অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। একই সাথে যেকোনো প্রশাসনিক বা ইমিগ্রেশন অভিযানে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রযোজ্য হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) এবং নিউইয়র্ক মেয়র কার্যালয় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অভিযানের বিচারিক তদারকির প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে।
নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি অভিযোগ করেছেন, পাঁচ বছরের এক শিশুর সামনে গাড়ির চারপাশ ঘিরে একাধিক গুলি চালানো হয়, যা স্থানীয় কমিউনিটিতে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তার সংকট তৈরি করেছে।
অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ডোমিনিকান রিপাবলিকের এক নাগরিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে এই পরিচালনা করা হয়েছিল এবং গুলি চালানোর পরপরই তাকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মেয়র মামদানি বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সরাসরি আলোচনা করার পরিকল্পনা করছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আইসিইর অভিযানে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থল কর্ডন করে ঘটনার ফরেনসিক তদন্ত চালাচ্ছে এবং আহত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছে।
