বিশেষ প্রতিবেদক :আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ওপর আরোপিত রাজনৈতিক বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার এবং ডিসেম্বরে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তোড়জোড় ও বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে দলটির রাজনৈতিক অধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠার জোর সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভিন্নমত দমন রোধ ও মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবির মুখে দেশে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড চালুর আলোচনা নতুন করে সামনে আসে।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৮ অনুযায়ী আইনসম্মত উপায়ে সমিতি বা সংঘ গঠন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের মৌলিক অধিকার রয়েছে। একই সাথে আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ বা তা প্রত্যাহারের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশন ও বিচারবিভাগের সুনির্দিষ্ট একতিয়ারভুক্ত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, কর্মকাণ্ডের আইনি বৈধতা ও সুরক্ষার বিষয়ে প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করে।
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে, জাতিসংঘ ও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মিত্রদের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, নভেম্বর মাসে আইনি ও সাংগঠনিক বিধিনিষেধ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার রাজকীয় স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম হবে।
এই রূপরেখা ও সম্ভাবনার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর সারা দেশে দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা ও প্রস্তুতির আমেজ দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতের স্বার্থেই দেশে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সার্বিক আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।
