নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটকে আবারও হলের মূল নামফলক ফিরিয়ে আনার প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত নাম পরিবর্তনজনিত বিভ্রান্তি দূর করতে বুধবার দুপুর ২টার দিকে বহুল আলোচিত ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা অপসারণ করে মূল ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম পুনর্বহালের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে হল কর্তৃপক্ষ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটে মূল নামের পরিবর্তে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ১৯৭৩ এবং হল প্রশাসন পরিচালনার নীতিমালা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো হলের নামকরণ, পুনর্নামকরণ কিংবা অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পূর্ণ এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও হল প্রাধ্যক্ষের প্রশাসনিক এখতিয়ারভুক্ত। অনুমতি ব্যতীত হলের প্রাতিষ্ঠানিক নাম বিকৃতি করা শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এস্টেট অফিস এবং শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রশাসন যৌথভাবে হলের সার্বিক প্রশাসনিক পরিচিতি রক্ষা ও নামফলক সংস্কার কার্যক্রম তদারকি করছে। ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম ও হল সিকিউরিটি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
হলের নামফলক পরিবর্তনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে হল সংসদের বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, বহিরাগত ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলের নাম সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর করতেই এই ব্যানার সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করে হল সংসদের প্রতিনিধিরা জানান, প্রাধ্যক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।
তবে হলে অস্থায়ী তোরণ অপসারণ ও স্থায়ী নতুন নামফলক স্থাপনের বাজেট এবং আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি হলের শীর্ষ কর্মকর্তা। [DETAIL NEEDED: হল প্রশাসনের পক্ষে ওসমান হাদি হলের নামফলক পুরোপুরি অপসারণ এবং স্থায়ী নতুন সাইনবোর্ড স্থাপনের সময়সূচি নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অফিসে এসে সরাসরি যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন]।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে নামফলক পুনর্বহালের এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
হল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, প্রধান ফটকের সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করে হলের মূল প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি পুরোপুরি বহাল করা হবে।
