নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর আদাবরে এক ব্যবসায়ীর আটতলা বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে রামদা, চাপাতি ও পিস্তল উঁচিয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ও চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শ্যামলী হাউজিং এলাকার ওই ভবনের সামনে ১৫-২০ জনের একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র দল এসে হামলা চালিয়ে মূল ফটক, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং জানালার কাচ ভাঙচুর করে তছনছ করে দেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে হত্যার হুমকি প্রদান করে অন্যায়ভাবে চাঁদা দাবি করে ও বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা চালায়।
দেশের ফৌজদারি কার্যবিধি ও স্থাবর সম্পত্তি সুরক্ষা আইনের আওতায় জোরপূর্বক অনধিকার প্রবেশ, সশস্ত্র হামলা ও বাসাবাড়িতে ভাঙচুর চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বিধান এবং জরুরি ফোন কলের ভিত্তিতে পুলিশি টহল ও তাৎক্ষণিক আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রতিটি থানা প্রশাসনের আইনি বাধ্যবাধকতা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং আদাবর থানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে শ্যামলী হাউজিং এলাকার জননিরাপত্তা রক্ষা ও অভিযুক্ত অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত রেখেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ তদন্ত কার্যক্রম জোরদার রাখা রয়েছে।
ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে বাড়ির মালিকের ভাতিজা মনির হোসেন বলেন, “অস্ত্রধারীরা এসেই গেটে রামদা-চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে কোপাতে চাঁদা দাবি করে এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ৯৯৯-এ ফোন করা সত্ত্বেও পুলিশ দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর পৌনে ১০টার দিকে এলে হামলাকারীরা অনায়াসে পালানোর সুযোগ পায়।
জানা গেছে, এর আগেও ২০২৪ সালের আগস্টে বাসাটি দখল করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্তের পর গত মার্চে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
রাজধানীর বুকে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র উঁচিয়ে এমন তাণ্ডব এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিলম্বিত পদক্ষেপে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে।
আদাবর থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
