ফোরটিন ডেস্ক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২০২৬ সালের এপ্রিলে কেনা ১৪টির পর নতুন এই ১১টি সহ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মোট ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পাদন করল জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটি।
নতুন সম্পূরক চুক্তির অধীনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ নিজেদের বহরে যুক্ত করতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক এভিয়েশন ক্রয় বিধিমালা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রশাসনিক নীতি মেনে চুক্তির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি তদারকি বহাল রাখা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমানের পরিচালনা পর্ষদ যৌথভাবে বোয়িংয়ের সাথে উড়োজাহাজ সরবরাহ ও অর্থায়নের বিষয়টি তদারকি করছে। আন্তর্জাতিক আকাশপথে প্রতিযোগিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বিমানের বোর্ড চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন চুক্তিতে স্বাক্ষর শেষে জানান, “আমাদের বহর ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা প্রবাসী ও ব্যবসার যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে।”
বোয়িংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “অতিরিক্ত ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো বিমানকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সাশ্রয়, বহুমুখিতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রদান করবে।”
অনুষ্ঠানে সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকসহ উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের বহরে রেকর্ড সংখ্যক আধুনিক উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাকে দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের জন্য এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সফল চুক্তি সম্পাদন শেষে বোয়িং কর্তৃপক্ষ তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছর থেকে পর্যায়ক্রমে ড্রিমলাইনার ও ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো বিমান বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু করবে।
