নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণ নিয়ে বিশৃঙ্খলা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা ঘিরে কৃষকদের মাঝে মারাত্মক গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অসংখ্য চাষি বর্তমানে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর শহীদ মোড় এলাকার বিএডিসি সারের ডিলারের দোকানে সার বিতরণের সময় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ওই দিন রাতেই ভূরুঙ্গামারী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন মামলার নথিপত্র খতিয়ে দেখে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং নিরপরাধ কৃষকদের হয়রানি থেকে মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং থানা পুলিশ যৌথভাবে এলাকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক নজরদারি চালু করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় আতঙ্ক দূর করে কৃষকদের স্বাভাবিক কৃষিকাজে ফিরিয়ে আনার আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সারের সঠিক বরাদ্দ চাইতে গিয়ে তারা এখন মামলার আসামি হয়ে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। মামলা ও ঋণের দায়ে অনেক পরিবার সামাজিকভাবে নিঃস্ব হয়ে মানসিকভাবে মারাত্মক ভেঙে পড়েছে বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।

কারামুক্ত কৃষক আল আমিন মোল্লা বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি, শুধু সার চেয়েছিলাম, সারের জন্য জেল খাটতে হয়েছে, ঋণের দায়ে এখন আমি নিঃস্ব”
তিনি আরও জানান যে অন্যায়ভাবে কারাবরণ করার পর ঋণগ্রস্ত হয়ে পরিবার নিয়ে বর্তমানে তিনি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। একই এলাকার কৃষক সুরুজ মিয়াও অভিযোগ করেন যে বিক্ষোভ হলেও কর্মকর্তারা শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হননি।
মাঠপর্যায়ে সার চাইতে গিয়ে কৃষকদের নামে ঢালাও মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে ফসলহানির শঙ্কায় পুরো এলাকায় গভীর সামাজিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা অনতিবিলম্বে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে নিরপরাধ কৃষকদের জামিনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে এবং সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাই শেষে আদালতে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
