নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহসহ : ময়মনসিংহসহ দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম দুই দফা বৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা। ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে চলতি আমন মৌসুমে জমিতে সেচ প্রদান এবং সার্বিক কৃষি উৎপাদন খরচ এক লাফেই অনেক বেড়ে গেছে।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের কৃষকরা জানান, বাজারে সার ও সেচ খরচ এমনিতেই চড়া ছিল। তার ওপর নতুন করে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল ফলিয়ে টিকে থাকা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কার্যালয় থেকে প্রশাসনিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পরিমাপ করে কৃষকদের সার্বিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সরকারের কৃষি সংক্রান্ত পলিসি ও সম্ভাব্য প্রণোদনা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে।
হঠাৎ তেলের দাম বাড়ায় কৃষকেরা শঙ্কা প্রকাশ করে জানান যে, উৎপাদিত ধানের সঠিক বাজারমূল্য না পেলে তাঁদের চরম লোকসান গুনতে হবে। এতে করে আগামীতে অনেকেই কৃষি কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।
গোপালনগর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আইসা দুই বার তেলের দাম বাড়াইলো, আমরা কৃষকরা কই যামু, আবাদ না করলে বাল বাচ্চারে কি খাওয়ামু।”
তিনি আরও জানান, আগে থেকেই কীটনাশক ও সারের দাম বেশি ছিল, এখন সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। একই ধরনের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ওই এলাকার কৃষক আবু তালেব ও সুরুজ্জামান।
কৃষিপ্রধান অঞ্চলে তেলের দাম বাড়ায় কৃষকদের মাঝে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনতিবিলম্বে ডিজেলের দাম কমিয়ে কৃষিখাতকে রক্ষা করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন কৃষক সমাজ।
কৃষি দপ্তরের পর্যালোচনার পর তেলের দামের প্রভাব সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
