নিজস্ব প্রতিবেদক, আশুলিয়া : ন্যূনতম মজুরির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না পেয়ে কারখানায় কার্ড পাঞ্চ করে হাজিরা নিশ্চিতের পরই কাজ ফেলে রাজপথে নেমে এসেছেন শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মুখে এবং এক কারখানার শ্রমিকদের ডাকে অন্য কারখানার কর্মীরা সংহতি জানালে নিরাপত্তার স্বার্থে আশুলিয়া এলাকার প্রায় ৭০টি কারখানায় সাময়িক সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করে হাজিরা দেন। কিন্তু এর পরপরই তারা উৎপাদন বন্ধ রেখে ফটক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং আশপাশের অন্য কারখানাগুলোর সামনে গিয়ে বাকি শ্রমিকদেরও কাজে যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান। পরিস্থিতির অবনতি দেখে একের পর এক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হলে কয়েক হাজার শ্রমিক রাস্তায় নেমে আসেন। পরে তারা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দিলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া দিয়ে তাদের শাখা সড়কগুলোতে সরিয়ে দেয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, মজুরি বোর্ড ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের কথা বললেও ঠিক কত টাকা মজুরি বাড়ছে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। ১২ হাজার ৫০০ টাকার বর্তমান মজুরিতে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরার উপক্রম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ ছাড়া তারা ঘরে ফিরবেন না বলে জানান। এর বাইরে গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে জিরাবো এলাকা থেকে শুরু করে এনভয় কারখানা পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিলও করেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জামগড়া এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর চালানো হলে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের এপিসি (সাঁজোয়া যান) প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি।
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, তাঁদের আওতাধীন মোট ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রায় ৭০টি কারখানা সাময়িক ছুটি ঘোষণা করেছে, বাকিগুলোতে স্বাভাবিক কাজ চলছে। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকরা কাজ করতে আগ্রহী হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বাইরে থেকে আসা উসকানিদাতারা গুজব ছড়িয়ে শিল্পে অশান্তি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জড়িত বহিরাগত উসকানিদাতাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
