আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের চাহিদা দ্রুত বাড়লেও নতুন সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ। সময়মতো নতুন সক্ষমতা যুক্ত করা না গেলে আগামী দশকে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ব্যান্ডউইথ ঘাটতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার অদূরে টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিআরএনবি) আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় জানানো হয়, ২০১৩ সালে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ছিল প্রায় ৫০ জিবিপিএস। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৮৬ টেরাবিট এবং ২০২৬ সালে প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে চাহিদা ১৯ দশমিক ১ টেরাবিট, ২০৩০ সালে ৫৪ টেরাবিট এবং ২০৩৫ সালে ৩০৫ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে। ২০৩৬ সালে তা ৪৩২ টেরাবিট পর্যন্ত হতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংযোগের প্রধান ভরসা সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫ নামের দুটি সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল। এর বাইরে আইটিসির মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ আমদানি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, মাত্র দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের ওপর নির্ভরতা দেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগকে ঝুঁকির মধ্যে রাখছে।
তুলনামূলকভাবে ভারত ১৯টি, মালয়েশিয়া ২৩টি, থাইল্যান্ড ১২টি এবং ফিলিপাইন ১৯টি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সি-মি-উই-৬ চালু হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা যথেষ্ট হবে না। কারণ সি-মি-উই-৪-এর কার্যকাল ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা। ফলে নতুন সক্ষমতা যুক্ত করতে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
বেসরকারি খাতে প্রস্তাবিত নতুন সাবমেরিন ক্যাবলগুলো চালু হলে প্রায় ৫১ টেরাবিট অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত হতে পারে। এতে মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা প্রায় ৬৭ টেরাবিটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ক্যাবল যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক সংযোগে বৈচিত্র্য বাড়বে, ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং প্রতিযোগিতার কারণে ইন্টারনেটের দাম কমার পাশাপাশি সেবার মানও বাড়তে পারে। তাই ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
