ফোরটিন ডেস্ক : হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের ২.১ বিলিয়ন (২১০ কোটি) ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ দ্রুত সচল করতেই অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আজ রোববার (৩০ আগস্ট, ২০২৬) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে এমপি হান্নান মাসউদ উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২১,৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) দপ্তর প্রায় ৪,৪৬৯ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত করেছে। কাজের ৯৯.৯১ শতাংশ শেষ হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা বরাদ্দ ঠিকাদারদের দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়ে জানতে চান তিনি।
জবাবে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বিগত সরকারের আমলে কেবল ভবন উদ্বোধন করে কাজ শেষ দেখানোর একটি প্রবণতা ছিল। কিন্তু যন্ত্রপাতি ও সংকেত ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ ফেলে রাখায় টার্মিনালটি চালুই করা যাচ্ছিল না। ফলে একদিকে সম্পদ নষ্টের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল, অন্যদিকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার ঋণের কিস্তি চালু হলেও কোনো আয় আসছিল না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে সার্বিক হিসাব পর্যালোচনার পর দেখেছে যে—কাজের চূড়ান্ত সমাপ্তি, ঠিকাদারের পূর্বের পাওনা ও অন্যান্য সংস্থার বকেয়া মেটাতে এই ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন। এটি অনুমোদন পেলে দ্বিগুণ যাত্রী সেবা দিয়ে পাওয়া আয় থেকেই জাইকার ঋণ শোধ করা সহজ হবে।
একই দিনে বিমানে টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি ও কালোবাজারি নিয়ে অপর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, অভ্যন্তরীণ রুটে ওয়ান-ওয়ে সাধারণ টিকিটের মূল ভিত্তি কখনো ১২,০০০ টাকা স্পর্শ করেনি। রিটার্ন টিকিট বা সরকারি ১৫ শতাংশ ট্যাক্সসহ কিছু ক্ষেত্রে মোট খরচ বাড়ে, তবে সাধারণ টিকিটের প্রকৃত মূল্য ৬,৩০০ থেকে ৬,৪০০ টাকার মধ্যেই থাকে। অসাধু চক্রের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও টিকিট কালোবাজারি সম্পূর্ণ বন্ধে সরকার ইতিমধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
