ফোরটিন ডেস্ক : দেশে শিশু নিখোঁজ ও অপহরণের চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সরকারি হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সারাদেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫ হাজার শিশু হারিয়ে যাওয়ার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ জন শিশু নিখোঁজ হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিভাবকদের অলক্ষ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া, বাস থেকে অগোচরে নেমে যাওয়া কিংবা নানা প্রলোভনে শিশু অপহরণের ঘটনা অহরহ ঘটছে। নিখোঁজ রূপা কিংবা হালিমার স্বজনেরা বছরের পর বছর থানায় ঘুরেও কোনো সন্তানকে উদ্ধার করতে পারেননি। তবে দ্রুত তথ্য প্রচার ও প্রযুক্তিভিত্তিক ‘মুন অ্যালার্ট’ (১৬২১৯)-এর প্রভাবে পাঁচ বছরের মুসকান ও আট বছরের সাইফকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধীরা ধরা পড়ার ভয়ে শিশু দুটিকে ঢাকায় ফেলে রেখে চম্পট দেয়। আবার আশ্রমে থাকা নুরুন্নাহার নামের এক শিশু দীর্ঘ আট বছর পর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহায়তায় খুঁজে পায় নিজের পরিবারকে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার্স’ উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে পুলিশি ট্র্যাকিং ও গণমাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়ানো না গেলে শিশুদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। সাত মাসে ১৫ হাজার শিশুর হারিয়ে যাওয়ার ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রশ্ন তুলছে—এই নিখোঁজ শিশুদের প্রকৃত গন্তব্য কোথায়? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষায়িত তদন্ত ইউনিট গঠন ও প্রযুক্তিনির্ভর ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
