নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টারের জেলা প্রতিনিধি ওমর আলী সোহাগের ওপর পৈশাচিক হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল মাখনের সরাসরি নির্দেশে ১৫-২০ জন ছাত্রদলকর্মী সাংবাদিক সোহাগকে এলোপাতাড়ি মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট, ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সোহাগ জানান, অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য সংগ্রহের সময় প্রেসক্লাব সভাপতি ও বিএনপি নেতা মাখন হঠাৎ চড়াও হন। তিনি সোহাগকে “আওয়ামী লীগের দোসর” আখ্যা দিয়ে ধাক্কা দিতে দিতে বের করে দেন এবং ছাত্রদল ক্যাডারদের গায়ে হাত তোলার উসকানি দেন। স্থান ত্যাগ করে চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলেও রেহাই পাননি সোহাগ; সেখানে গিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই বাস টার্মিনালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের সত্য ঘটনা ডেইলি স্টারে প্রকাশ করায় সোহাগের ওপর আগে থেকেই ক্ষিপ্ত ছিলেন বিএনপি নেতা মাখন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আইনমন্ত্রীও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছেন এবং আক্রান্ত সাংবাদিককে পূর্ণ আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
