ফোরটিন ডেস্ক : জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় নিজের জামিন আবেদন না চাওয়ার কথা সরাসরি আদালতকে জানিয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ কথা বলার অনুমতি নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর আর বাড়ি যাওয়ার তাড়া নেই এবং তিনি জমা দেওয়া জামিন আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিতে চান।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানির নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন দীপু মনি। দীর্ঘদিন অসুস্থ ও বাকরুদ্ধ থাকা তাঁর স্বামী তৌফিক নেওয়াজ গত ১৮ আগস্ট মারা যান। ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী দীর্ঘ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। শেষ দিনগুলোতে তাঁর পাশে থাকার জন্য এপ্রিলে জামিন চেয়েছিলাম। কিন্তু ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে তাঁর কাছে থাকতে পারিনি। তাই এখন আর কার কাছে যাব? আমার আর বাসায় ফেরার তাড়া নেই।”
দীপু মনির বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে জানান, এ ধরনের ব্যক্তিগত বিয়োগান্তক ঘটনা অত্যন্ত ব্যথাদায়ক এবং আবেদনের যৌক্তিকতা থাকলেও আদালতকে মামলার সার্বিক দিক ও আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিতে হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের শুনানি স্থগিত রেখে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদনের পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যার মধ্যে দীপু মনিও অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ রয়েছেন।
