ফোরটিন ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে পূর্বনির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার (ইন্টারভিউ) সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য নতুন ও অত্যন্ত কঠোর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কারণেই সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় এই বিরতি আনা হয়েছে।
ইতোমধ্যে বহু ভিসা আবেদনকারী ইমেইলের মাধ্যমে তাঁদের সাক্ষাৎকারের তারিখ বাতিলের বার্তা পেয়েছেন। তাঁদের জানানো হয়েছে যে পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে, তবে এই স্থগিতাদেশ কত দিন স্থায়ী হবে সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ও ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অভূতপূর্ব কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য মতে, ভিসা আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল (পাবলিক চার্জ) হয়ে পড়বেন কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতেই কর্মকর্তাদের এই বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে ৭৫টি দেশের (যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত ছিল) অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা হলেও, গত ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ওই আদেশ বাতিল করেন।
বর্তমানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা সহ পর্যটক ও ব্যবসায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন বন্ধ করতে একের পর এক নতুন নীতি প্রণয়ন করছে মার্কিন প্রশাসন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন একে জাতীয় নিরাপত্তা ও সরকারি তহবিলের অপব্যবহার রোধের উপায় হিসেবে দেখাচ্ছে, তবে বিভিন্ন বিশ্বমানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবী গোষ্ঠী এই অতিরিক্ত বিধিনিষেধের ফলে বৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চরম ভোগান্তির তীব্র সমালোচনা করছেন।
